Wednesday, June 2, 2021

EBG - 2) 1ST YEAR HONOURS PAPER SHORT & BROAD NOTES

 

EXCELLENCE ACADEMY                        

                   YOUTUBE CHANNEL – EXCELLENCE ACADEMY

EBG - 2

                                 PH.NO - 7478448780

  (EBG - 2) BENGALI 1ST YEAR HONOURS PAPER ONLINE MCQ  EXAM        SUGGESTION + BROAD SUGGESTION + SHORT NOTES

 

1) অক্ষর কাকে বলে এবং কয় প্রকার?

Ans: বাগযন্ত্রের স্বল্পতম প্রয়াসে ধ্বনিকে অক্ষর বলে। ছন্দোবিজ্ঞানে অক্ষর বলতে হরফ কে (বর্ণ) বাোঝানাো হয় না মাত্র! বিচারের জন্য অক্ষরকে দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয় স্বরান্ত।

2)মধ্য-বাংলা ভাষার চারজন কবির নাম লিখুন।

Ans: মধ্য-বাংলা ভাষার আদিস্তরের কবি হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' -এর কবি বড় চন্ডীদাসের কথা বলতে হয়। অন্ত্য-মধ্য-বাংলা ভাষার কবিদের মধ্যে কৃত্তিবাস, কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তী-ও রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র বিশেষভাবে উল্লেখযাোগ্য।

3) পর্ব বলতে কি বাোঝ? উদাহরণ দিন।

Ans: এক হ্রস্ব যতি থেকে আর এক হ্রস্ব যতি পর্যন্ত বাক্যের যে অংশ তাকে পর্ববলে।র্থাৎ চরণের খণ্ডিত অংশের নাম পর্ব।

উদাহরণ - কেলা ছিলেম/ কুয়ার ধারে/ নিমের ছায়া তলে।

4)মধুসূদনের অমৃতাক্ষর ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য কি?

Ans: এই ছন্দে অর্থ বিভাগ ও ছন্দ বিভাগ পরস্পর মিলে যায় না।

5)লয় কাকে বলে?

Ans: লয় শব্দের অর্থ গতি। সঙ্গীতে সুরের লয়কে গতি বলে। সুরের লয় স্বর প্রবাহের গতি। আর ছন্দের লয় অক্ষর ধ্বনির উচ্চারণের গতি।

6)ব্যঞ্জনান্ত অক্ষর কাকে বলে?

Ans: যে অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকে তাকে ব্যঞ্জনান্ত অক্ষর বলে। যেমন গাছ। এই শব্দের শেষে গঅআছ এই বর্ণগুলি আছে। ছ' ব্যজন বর্ণ বলে এটিকে ব্যঞ্জনান্ত অক্ষর বলে।

7)শ্বাসাঘাত কাকে বলে?

Ans: কোনাো কোনাো চরণের এক-একটি পর্বে বিশেষ অক্ষরের উপর যে জোর দেওয়া হয় তাকে শ্বাসাঘাত বলে।

8)পূর্ণচ্ছেদ কি?

Ans: বাক্যের শেষে ছেদ দীর্ঘস্থায়ী হলে তাকে পূর্ণচ্ছেদ বলে।

26)স্তবকের সংজ্ঞা দিন।

Ans: সুশৃঙ্খল রীতিতে পরস্পর সংশ্লিষ্ট চরণ পর্যায়ের নাম স্তবক।

9)প্রাকৃত ভাষার শ্রেণি ক'টি কী কী?

Ans: প্রাকৃত ভাষার শ্রেণি পাঁচটি মতান্তরে ৬টি)। তাহলে -(১) মহারাষ্ট্রী প্রাকৃত

(২) শৌরসেনী প্রাকৃত, ৯৩) মাগধী প্রাকৃত, ৯৪) অর্ধমাগধী, (৫) পৈশাচি এবং (৬) গৌড়ী-প্রাকৃত।

10) মধুসূদনের অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য কি?

Ans: এই ছন্দোৰ্থবিভাগ ও ছন্দ বিভাগ পরস্পর মিলে যায় না। অর্থাৎ যতি অনুগামী হয় না।

11) মিত্রাক্ষর কাকে বলে?

Ans: পংক্তি বা চরণের শেষধ্বনিটি পরবর্তী পংক্তি বা চরণের শেষ ধ্বনির সঙ্গে সাদৃশ্যযুক্ত হলে তাকে মিল বা মিত্রাক্ষর বলে।

12) প্রাচীন বাংলার নিদর্শন হিসেবে কয়েকটি শব্দ লিখুন।

Ans: প্রাচীন বাংলার নিদর্শন গৃহীত শব্দের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তার মধ্যে কয়েকটি হল - তাম্বাড (আমড়া), কিঞ্চোহি (কেঁচো), চিড়া (চিড়ে/ চিড়া <

চিপিটক), জুমাল (জোয়াল), পিম্পড়ি (পিপড়ে), ফরিঙ্গ (পতঙ্গ), মউড় (মুকুট), হাতইড়া

(হাতুড়ি), হর্জিকা (হাজা), বিলাল (

বিল), লাহলি (লাহিড়ি), ডাোঙ্গা (ডাঙা), পারলি (পারুল), ডাোবতি (ডাোবা), বরজ (আচ্ছাদনবিশিষ্ট পানগাছের খেত,

অবশ্য বরজ' শব্দটিকে কেউ কেউ মনে করেন খাটি বাংলা, অনেকে মনে করেন এটি আরবি শব্দ, দুহিল দুধু,' 'ভান্তি ন বাসসি' ইত্যাদি।

13) বর্ণ বা বর্ণমালা কী?

Ans: ভাষন ধ্বনিকে চেনাবার বা বাোঝাবার জন্য প্রত্যেক জাতি বিশেষ প্রতীক বা। চিহ্ন ব্যবহার করে থাকেন, এই প্রতীকই হচ্ছে বর্ণ। আর ভাষায় ব্যবহৃত বর্ণসমষ্টিকে বর্ণমালা বলা হয়।

14) পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায় বাংলার কোন কথ্য উপভাষা প্রচলিত।

Ans: রাঢ়ি উপভাষা।

15) মধ্য বাংলাকে ক'টি স্তরে ভাগ করা যায় ও কী কী?

Ans: যে মধ্য-বাংলার ব্যাপ্তিকাল মাোটামুটিভাবে চারশাো বছর (আপুমানিক ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ), সেই বাংলা ভাষাকে দুটি স্তরে ভাগ করা হয়। একটি স্তর হল আদি-মধ্য-বাংলার (আনুমানিক ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ), অন্য স্তরটি হল অন্ত্য-মধ্য-বাংলার (আনুমানিক ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ)।

16)স্বরান্ত অক্ষর কাকে বলে?

Ans: যে অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি থাকে, তাকে স্বরান্ত অক্ষর বলে। ভাষা এই। শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে ভ+আষ পাওয়া যায়। শেষে 'আ' স্বরধ্বনি আছে এটি স্বরান্ত অক্ষর।

17)বাংলা ভাষা কাকে বলে?

Ans: বাঙালিদের ঘরে-বলা সমস্ত আঞ্চলিক ও শ্রেণীগত উপভাষা, শিষ্ট সংলাপ ও লেখায় ব্যবহৃত মান্য চলিত বাংলা এবং শুধু লেখায় ব্যবহৃত সাধু বাংলা ও মিশ্র পদ্যভাষা-এই সমস্ত কিছু মিলিয়ে যে সার্বিক ভাষার ধারণা, তারই নাম বাংলা ভাষা। প্রত্যেক ভাষায় একটি উপভাষা গুচ্ছের সমষ্টি, বাংলা ভাষা ও তাই।

18)স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি কাকে বলে?

Ans: বাগযন্ত্র থেকে নির্গত ধ্বনি যখন মুখের মধ্যে কোনাো জায়গায় বাধা না পেয়ে সহজেই উচ্চারিত হতে পারে তখন তাকে বলে স্বরধ্বনি। যে- ধ্বনির।উচ্চারণকালে ভাষার ধ্বনিবহনকারী শ্বাসবায়ু মুখের মধ্যে কোনাো জায়গায় বাধা পায় তাহলে ব্যঞ্জনধ্বনি।

19)বাংলা ভাষার সাহিত্যিক গদ্য উপভাষার রূপ ক'টি ও কী কী?

Ans: বাংলা ভাষার সাহিত্যিক গদ্য উপভাষার রূপ মূলত দুটি - (১) সাধুরীতির গদ্য ও (২) চলিত রীতির গদ্য।

20) ছন্দের ক্ষুদ্রতম উপাদান কী?

Ans: ছন্দের ক্ষুদ্রতম উপাদান হল দল।

21)ছন্দ কাকে বলে?

Ans: যে ভাবে পদবিন্যাস করলে বাক্য শ্রুতিমধুর হয় এবং মনে রসের সঞ্চার হয় তাকে ছন্দ বলে।

 

1)বাংলা ভাষায় দ্রাবিড়, অস্ট্রিক ও ভোটচীনীয় ভাষার প্রভাব উদাহরণসহ আলোচনা করুন।

উত্তর:  পৃথিবীর মূল ভাষা বংশগুলির মধ্যে চারটি বংশ থেকে জাত আধুনিক ভাষা ভারতবর্ষের বিভিন্নস্থানে প্রচলিত আছে। এই বংশগুলি হল :-1)ইন্দো-ইউরোপীয় (Indo-European),

2)অস্ট্রিক (Austric),

3)দ্রাবিড় (Dravidian), এবং

4) ভোট-চীনীয় (Sino-Tibetan)।

 ভাষাচার্য সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় এগুলির বিকল্প নাম দিlতে চেয়েছেন, যথাক্রমে- আর্য, নিষাদ, দুমিড় বা দ্রবিড় এবং কিরাত। এইসব ভাষা-ভাষী জাতি ছাড়া আরও দুটি আদি জাতি ভারতে প্রাচীনকালে এসেছিল। তারা হল - সেমিটিক ও নিগ্রো। কিন্তু এদের কোন ভাষা ভারতে আর প্রচলিত নেই। ইন্দো-ইউরোপীয় ছাড়া অন্য যেসব বংশের ভাষা ভারতে প্রচলিত আছে বা বাংলা ভাষায় প্রভাব ফেলেছে সেইগুলিকে আমরা ভারতের অন্-আর্যভাষা বলি। এই ভাষাগুলির উৎস এবং প্রভাব সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল,

বাংলা ভাষায় দ্রাবিড় ভাষার প্রভাব :দ্রাবিড় জাতির লোকেরা ভারতে এসেছিল আনুমানিক ৩৫০০ খ্রিঃ পূর্বাব্দে। এই দ্রাবিড় দের আদি বাসস্থান ছিল সম্ভবত ভূ -মধ্যসাগরীয়  (Mediterranean)অঞ্চলে। ভারতে আসার পরে দক্ষিন ভারতে এই ভাষার একচ্ছত্র বিস্তার ঘটে। দক্ষিন ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে তেলেগু, তামিলনাড়, পন্ডিচেরী ও সিংহলে তামিল, কর্নাটকে কন্নড়, কেরালায় মলয়ালম, উত্তর-পশ্চিম ভারতের বেলুচিস্তানে ব্রাহুই, মধ্য ভারতের গোন্ড বা গোন্ডী,বাংলার রাজমহল পাহাড়ে মালতো ভাষা প্রচলিত। প্রাচীন সাহিত্য-সংস্কৃতিতে তামিল, ভাষা ও সাহিত্যের আধুনিকতম পরীক্ষা নিরীক্ষায় মালয়লম্ ভাষা বিশেষ সমৃদ্ধ। বাংলা ভাষায় দ্রাবিড় প্রভাব আলোচনা করতে গেলে বলতে হয় যে এখানে। আর্যরা আসবাব আগে দ্রাবিড় এবং অস্ট্রিক ভাষাভাষী মানবগোষ্ঠীর বাস ছিল। বাংলাদেশে আর্য অধিকার সম্প্রসারিত হয়েছে সপ্তম শতাব্দীর মধ্যেই। ফলে পারস্পরিক আদান-প্রদান বা সমন্বয়ের ব্যাপরটি খুবই স্বাভাবিক ছিল। বাংলাদেশে বিভিন্ন স্থান নামে দ্রাবিড় প্রত্যয়ের পরিচয় খুবই স্পষ্ঠ। হিট্টা, হিট্টী, ভিট্টা, ভিট্টী বা বালুটে, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, হাওড়া রিষড়া, চুঁচুড়া, বাঁকুড়া এর উদাহরণ। বাংলায় যে প্রত্যেক শব্দের প্রথমে শ্বাসাঘাত পদে তা আসলে দ্রাবিড় প্রভাবেরই ফল। এছাড়া হওয়া ক্রিয়ার উহ্য থাকা এবং ধ্বন্যাত্মক বা অনুকার শব্দের ব্যাপারেও এ প্রভাব ক্রিয়াশীল। লক্ষনীয় যে। বৈদিক সংস্কৃতেও ধ্বন্যাত্মক শব্দ আছে,তবে তা সংখ্যায় স্বল্প। বাংলায় যে তার প্রাচুর্য রয়েছে এর কারন দ্রাবিড় প্রভাব। অনুকারত্মক শব্দের ক্ষেত্রে তামিল প্রভাবের কথা বিশেষভাবে বলতে হয়। বাংলায় সাধারনও ‘ট’ দিয়েই অণুকারাত্মক শব্দের প্রয়োগ। তাচ্ছিল্য বোঝাতে ‘ফ’ চালু আছে। -ভাষাতাত্বিকদের অনুমান যে স্বরভক্তি বা বিপ্রকর্ষ স্বরসঙ্গতি এবং আদি স্বরলিপির ক্ষেত্রে দ্রাবিড় প্রভাব রয়েছে। বাংলায় আদি স্বরাগম হয় উচ্চারনের সুবিধে বা সৌকর্যের জন্য। ভাষাবিদেরা দেখিয়েছেন যে তামিল ভাষায় ‘র’ বা ‘ল’-এর মতো শব্দের আগে আদিস্বরাগম খুব স্বাভাবিক ঘটনা। বাংলাতেও এই ব্যাপারটি আছে। তাই সংস্কৃত ‘নগ্ন’ হয়ে যায় ‘লঙ্গ’। বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে যে ন’এর জায়গায় হয়েছে ল' এবং ‘গ্ন হয়েছে ‘ঙ্গ’, বাংলায়  আদিম স্বরাগম তার রূপ হল ‘উলঙ্গ। শব্দে ও বাক্যে আদি শ্বাসাঘাতের বিধিটিও দ্রাবিড় প্রভাবজাত। ধ্বনিগত প্রভাব ছাড়া রূপতাত্বিক ক্ষেত্রেও কিছু প্রভাব এসেছে। যৌগিক ক্রিয়াপদের বাংলায় দ্রাবিড় রীতি অনুসারে সমাপিকা ক্রিয়ার বদলে শত্ব, শানচ প্রভৃতি প্রত্যয়যুক্ত নাম পদের ব্যবহারের রীতি দ্রাবিড় ভাষা থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে বাংলায় এসেছে। বাংলায় বহুবচনের বিভিক্তি গুলা,গুলি, কারো কারো মতে তামিল ভাষার গল বিভক্তি থেকে আগত। শব্দ ভান্ডারেও কিছু তামির উৎসজাত শব্দ পাই। যেমন—পিলে (ছেলেপিলে), উলু, অনল, কুন্তল, চন্দন ইত্যাদি।

অস্ট্রিক ভাষার উৎস ও বাংলা ভাষায় এর প্রভাব : পশ্চিম এশিয়া থেকে প্রত্ন-অস্ট্রালয়েড (ProtoAustraloid) জাতির যে শাখা ভারতে এসেছিল তারাই এখানকার পূর্ববর্তী অধিবাসী নিগ্রোদের সঙ্গে মিশে অস্টিক জাতির সৃষ্টি করে। ভারতে এখন যেসব বংশের ভাষা পাওয়া যায় তাদের মধ্যে অস্ট্রিক বংশই হল ভারতে আগত প্রাচীনতম বংশ। ভারতে প্রচলিত-অস্ট্রিক বংশের ভাষাগুলির জন্ম উৎস নিম্নে দেখানো হল, এই বংশের ভাষাগুলির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল সাঁওতালি। কারন আদিবাসীদের মধ্যে সাঁওতালি ভাষা বিহারের ছোটনাগপুর, সাওতাল পরগনা রাঁচি প্রভৃতি অঞ্চলেই বেশি প্রচলিত। এই ভাষা এখন নিজস্ব লিপি অলচিকিতে লিখিত হয়। অস্ট্রিক বংশের ভাষার প্রভাব বাংলায় সবচেয়ে বেশী। এই বংশ থেকে সংস্কৃত হয়ে কতকগুলি শব্দ বাংলায় এসেছে। যেমন- তাম্বুল, কদলী, আবুল (লাউ) ইত্যাদি। আর বহু শব্দ সোজাসুজি অস্ট্রিক থেকে বাংলায় এসেছে এবং দেশী শব্দ নামে খাটি বাংলার মূল শব্দ ভান্ডার গঠন করেছে। অধ্যাপক ক্ষুদিরাম দাস প্রমুখ পন্ডিতেরা সম্প্রতি প্রমান করেছেন বাংলার যে সব শব্দকে আমরা আর্যভাষার শব্দ বলি তাদের মধ্যে অনেক গুলিই অস্ট্রিক উৎস থেকেই জাত, পরিবর্তিত শব্দ। বাংলায় আগত অস্ট্রিক শব্দের নিদর্শন- খোকা, খুকি, খড়, খুটি, টেকি, ঢিল, ঢিবি, ঝিঙ্গা, চিংড়ি, মুড়কি ইত্যাদি। এমনকি বঙ্গ’ শব্দটিও অস্টিক উৎসজাত।

ভোট চীনীয় ভাষা বংশ-এর প্রভাব : পূর্ব দিকের কোন দেশ থেকে আনুমানিক খ্রীঃপূর্ব ১ম শতাব্দীতে ভোটচীনীয় বংশের লোকেরা ভারতবর্ষে আসে। এই বংশের ভাষাগুলি এখন ব্রহ্মদেশ ও চীনের নিকটবর্তী আসামের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং হিমালয়ের পাদদেশে ইতস্তত বিক্ষপ্ত আকারে প্রচলিত আছে। এই বংশের ভারতীয় ভাষাগুলির উৎসগত। পরিচয় এইরকম, ভারতীয় আর্য ভাষায় এই ভোট চীনীয় ভাষা গোষ্ঠীর প্রভাব তেমন বিরাট কিছু নয়। ভাষাবিদদের বক্তব্য তাই। তবে কীচক, তসর, সিন্দুর, ম্লেচ্ছ প্রভৃতি শব্দের মূলে এই চীনীয় ভাষার প্রভাব থাকতে পারে। এর থেকে আধুনিক বাংলাতেও কিছু শব্দ এসে গেছে বা নেওয়া হয়েছে। যেমন- বর্মী ভাষা থেকে এসেছে লুঙ্গি, ফুঙ্গি। চীনা ভাষা থেকে ‘চা’ বা লিচুর মত শব্দ।

Q.লিপির উৎস, সূচনা, বিকাশ, বৈচিত্র্য-পরম্পরা আলোচনা করুন।

উত্তর:  মানুষের সব থেকে বড়ড়া আবিষ্কার গুলির মধ্যে একটি হল ভাষা আবিষ্কার। কিন্তু ভাষা মূলত কথ্য ও শ্রাব্য। যে মুহুর্তে কোনো কথা বলা ও শোনা হল তার পরে কখনো সেই কথাটি অবিকৃতভাবে পাওয়া ছিল অসম্ভব। এই সংরক্ষন তথা স্থানান্তর ও কালান্তরের বাসনা থেকেই মানুষকে তৈরি করতে হল লিপি। অর্থাৎ, যে ভাষা ছিল বলা আর শোনার বিষয়, দৃশ্যরূপ দিয়ে লিপি তাকে করে তুলল লেখা আর পড়ার সামগ্রী। এই অর্থে লিপি মাত্রেই ছবি আর ছবির চিত্রনের পশ্চাতে কাজ করেছে প্রতীকীয়তা আর বিমূর্ততার আকাঙ্খ। মানুষের আবিস্কৃত লিপি পদ্ধতি তাই ক্রমশই এক একটি বস্তু বা বিষয়ের প্রতীক না থেকে বিভিন্ন বিমূর্ত মনোভাব অথবা অক্ষর সমূহ এবং শেষ পর্যন্ত কেবলমাত্র বিভিন্ন ধ্বনির প্রতীক হয়ে উঠেছে। নিম্নে আমরা সাধারণভাবে লিপির উৎস, সূচনা, বিকাশ ও বৈচিত্র্য আলোচনা করব।

   লিপির উৎস সম্পর্কে প্রথমেই বলা যায় লিপির খোঁজ মানুষ প্রথমে কিন্তু পায়নি। প্রথমে সে মনের ভাব প্রকাশ করতো ছবি এঁকে। ফ্রান্স, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা সাইবেরিয়া, এমনকি ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভীমবেটকাতেও অজস্র গুহচিত্র পাওয়া গিয়েছে। আদিম মানুষের শিকার কাহিনী আঁকা আছে এইসব ছবিতে। পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো গুহাচিত্রটি তিরিশ হাজার বছরেরও বেশি আগে আঁকা হয়েছিল। ছবি এঁকে মানুষ মনের অন্যান্য ভাবও আদান প্রদান করত। কিন্তু সব কথাতো ছবি এঁকে বোঝান যায় না। ছবি আঁকা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার আর সব মানুষ ছবি আঁকাতেও পারে না। তাই ক্রমশ ছবি ভেঙে ছবির আদলে অক্ষর লেখার দিকে এগোতে চেষ্টা করলো মানুষ। ছবি-ভাঙা এই লিখনকেই বলা হয় চিত্রলিপি। কিন্তু এরও আগে লিপির আর একটি স্তর রয়েছে, তাকে লিপিবিশরদ ডেভিড ডিরিঞ্জার নাম দিয়েছেন নলিপি। চিত্রলিপি পদ্ধতি সাধারনত দুধরনের

১. আলেখ্য চিত্রাঙ্কন পদ্ধতি। ২. স্মারক চিত্রাঙ্কন পদ্ধতি।

প্রথম পর্যায়ে পাই ছবি। যেমন- জাদু বিশ্বাস উদ্ভূত পটশিল্প, প্রায় ২০ হাজার বছর আগে এইভাবে লিপির পূর্বসুরী পাকসুলী পাঠানো মানে যুদ্ধং দেহি'- এরকম প্রবনতাই সূচিত করে। এর পরবর্তী যে লিপির ব্যবহার পাওয়া যায় তা প্রকৃত লিখন পদ্ধতি।

  তারই বিকাশ ক্রমশ উন্নততর চিত্রলিপি থেক  ভাবলিপি, ভাবলিপি থেকে অক্ষরলিপি হয়ে অবশেষে ধ্বনিলিপিতে পরিনত হয়েছে। লেখা বা লিপির আদি ব্যাপার তাই ছবি আঁকা, সাড়ে চার বা পাঁচ হাজার আগেই প্রথম লিপির ব্যবহার শুরু হয়। পৃথিবীর সাতটি অঞ্চলে প্রকৃত লিপির ব্যবহার শুরু হয়। সুমেরু অঞ্চল-৪০০০ খ্রিঃ পূঃ,

ইজিপ্ট-s০০০ খ্রিঃ পূঃ,এজিয়ান (হিট + ক্রিট)–২০০০ খ্রিঃ পূঃ,,চিন-২০০০ খ্রিঃ পূঃ,এলম-৩০০০ খ্রিঃ পূঃ,,সিন্ধু-৩০০০ খ্রিঃ পূঃ, মায়া-১০০০ খ্রিঃ পূঃ, Johannes Friedrich 1966 তে প্রকাশিত তাঁর বইয়ে এই সাতটি অঞ্চলের কথা বলেন। বলাবাহুল্য, প্রথম যে প্রকৃত লিপির ব্যবহার, তা চিত্রলিপি। ক্রমে একটিমাত্র বস্তুকে না বুঝিয়ে তা কোঝাতে লাগল এই পটের আবির্ভাব হচ্ছে যার ছবি বিশেষ বিশেষ বার্তাবহ অথবা বিভিন্ন পাথরের নুড়ির বিন্যাসেও ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বোঝাত। নুড়ির বর্ণ এবং উপরে লোহার কাজ সমুহের বিন্যাসের উপর অর্থ নির্ভর করতো। দড়িতে গিট এই রকমই আর একটি পদ্ধতি যা। কিনা সহায়ক হিসেবে এখনও প্রচলিত। বিভিন্ন গিট বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিবাহী একে Quipu বলে। পেরুর কিপু’ র মতোই উত্তর আমেরিকার ইরোকোয়া আদিবাসীরা পুঁতি গেঁথে তৈরি করে কোমরবন্ধ বা ‘ওয়ামপুম। পুঁতির বিন্যাস ও সজ্জা দেখে বুঝতে হয় প্রস্তুতকারক কী বলতে চান। এছাড়া লাঠির গায়ে দাগ কেটে, গাছের ডালে ন্যাকড়া জড়িয়েরও নানা খবর চলাচলি হতো। লাঠির গায়ে কাটা দাগের মাপ ও দূরত্ব, ন্যাকড়া বাঁধার ধরন প্রভৃতি থেকে বুঝতে হতো বক্তব্য বিষয়। সংকেত বা বার্তা প্রেরনের মধ্যে দিয়েও মানুষের আদান প্রদানের কাজে প্রতীকী হয়ে ওঠার প্রবনতা দেখতে পাওয়া যায়। পান’ দেওয়া মানে আপ্যায়িত করা, কথা শেষ হওয়ার পর পান দেওয়ার অর্থ’ এবার তবে আসুন অথবা কচুপাতায় রক্ত ও পশু পাখির একটি ভাবকে। এই পর্যায়ের নাম ভাবলিপি, চিত্রলিপি বা ভাবলিপির ক্ষেত্রে চিত্র বা চিহ্নটির সঙ্গে ভাষাতাত্ত্বিক অর্থের সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ, কিন্তু এরও পরে মানুষ আরো প্রতীকী হয়ে ওঠার চেষ্টা করল। চিহ্নগুলিও কেবল কোন বস্তু বিষয় বা ভাবকে না বুঝিয়ে হয়ে  উঠল এক একটি অক্ষর বা Syllabhe-এর প্রতীক। একে অক্ষরলিপি বলা হয়। এরও পরের স্তরে চিহ্নগুলি হয়ে উঠল কেবলমাত্র এক একটি ধ্বনির প্রতীক। এই ধ্বনিলিপি’ -ই সব থেকে আধুনিক, ধ্বনিলিপি হল। উচ্চারন ভিত্তিক লিপি। যেমন,-কলম’ উচ্চারন করতে গেলে প্রথম ধ্বনিটি হবে ‘ক’। এই ধ্বনিটির চিহ্ন যে বর্ণটি (ক), কমল বা কলা বললেও সেই বর্ণটিই লেখার সময় ব্যবহৃত হবে। অর্থ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বর্ণ পরিবর্তন করার আর দরকার নেই। খেলা’ বা খুশি, বা খোসমোদ লিখতে গেলে ‘খ’ দিয়ে শুরু করতে হবে। অবশ্য স্বরভেদে ‘খ’ এর সঙ্গে এ- কার উ-কার বা ও-কার যুক্ত হবে মাত্র । অর্থাৎ উচ্চারণকে অনুসরন করেই অক্ষর বদলাতে থাকে। এই ভাবেই যে লিপি ছিল কেবলমাত্র বিশেষ কোন বস্তু, বিষয় বা ভাবের প্রতীক তা হয়ে উঠলো কোন ভাষায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধ্বনির প্রতীক। ভাষাতাত্বিক অর্থ নয়, ভাষাতাত্বিক গঠনের দিকটিই এই ভাবেই হয়ে উঠল প্রধান। যেমন—গোরুর মুখের ছবি থেকে এসেছে ‘এ’ বর্ণটি। এই গ্রিক ‘q' (আলফা) থেকে এসেছে ইংরেজি ‘a'বর্ণটি। আজ আমরা বুঝতে পারি না এই 'a' বর্ণটি  কেবল গোরুকেই বোঝানাো ভাবা যায়।

!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

ebg - 2,

 nsou assignment,

ebg - 2 short notes,

 netaji subhas open university,

nsou bdp assingment 2021,

nsou exam 2021,

nsou reduced syllabus,

assingment,

excellence academy,

bdp 1st year,

notes,

bdp 1 st year,

!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

Thanks you for contacting EXCELLENCE ACADEMY

Please let us know how we can help you

 

Subscribe my You Tube channel :-

https://youtube.com/channel/UCeqI19916_20Ic39jK0wi1A

join my facebook group :-

https://www.facebook.com/groups/485319229356130/?ref=share

!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

 

 

 

 

2 comments:

  1. মালপাহাড়ী পৃথিবীর কোন আদি ভাষা ব্্শের অন্তর্গত

    ReplyDelete
  2. ভারতবর্ষে পৃথিবীর কোন কোন আদি ভাষা ব্্শের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়

    ReplyDelete

how can we help you