EXCELLENCE ACADEMY
YOUTUBE CHANNEL – EXCELLENCE ACADEMY
EBG - 1
PH.NO - 7478448780
(EBG - 1) BENGALI 1ST HONOURS PAPER ONLINE MCQ EXAM SUGGESTION + BROAD SUGGESTION + SHORT NOTES
1) চর্যাপদের মাোট রচনাকার কত ছিলেন।
Ans: 23 জন।
2) চর্যাপদের ভাষা কে কি
Ans: সন্ধ্যা ভাষা।
3) বাংলা ভাষায় রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কে।
Ans: চন্দ্রাবতী।
4)কৃত্তিবাসের পূর্বপুরুষ নরসিংহ জাহাজে রাজা সভাসদ ছিলেন তিনি কে।
Ans: দনুজমর্দন দেব।
5) কৃত্তিবাস ওঝার পিতা কে ছিলেন।
Ans: বনমালী।
6) কৃত্তিবাস ওঝার বংশের পদবী কি ছিল।
Ans: মুখাোপাধ্যায়
7) কৃত্তিবাস ওঝার জন্ম কত সালে।
Ans: 1398.
8) কৃত্তিবাস রামায়ণ লেখা হয় কত শতাব্দীতে।
Ans: পঞ্চদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে।
9)কৃত্তিবাসী রামায়ণ প্রথম মুদ্রিত আকারে প্রকাশিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে।
Ans: 1802 - 1803.
10)কৃত্তিবাসী রামায়ণ দুই খণ্ডে প্রথম কে প্রকাশ করেন।
Ans: জয়গাোপাল তর্কালঙ্কার।
11)কৃত্তিবাসী রামায়ণের কান্ড সংখ্যা কটি।
Ans: সাতটি
12) কৃত্তিবাসের যে পূর্বপুরুষ পূর্ববঙ্গের অধিবাসী ছিলেন, তার নাম কি।
Ans: নরসিংহ।
13) কাশীরাম দাসের পৈতৃক উপাধি কি ছিল।
Ans: দেব।
14) কাশীরাম দাসের গুরুর নাম কি।
Ans: অভিরাম মুখাোটি
15) ষাোড়শ শতাব্দী মহাভারতের অনুবাদক কে।
Ans: সঞ্জয়
16)যে একই নামে দু'জন কবি ভগবতের অনুবাদ করেন সেই গ্রন্থটির নাম কি।
Ans: শ্রী কৃষ্ণমঙ্গল।
17) বিজয় গুপ্তের লেখা মঙ্গল কাব্য কোনটি।
Ans: মনসামঙ্গল।
18) কেতকাদাস ক্ষেমানন্দের কাব্যের নাম কি।
Ans: ক্ষেমানন্দী।
19) চন্ডীমঙ্গল কবি মানিক দত্ত কোন শতাব্দীর কবি।
Ans: চতুর্দশ।
20) কেতকাদাস ক্ষেমানন্দের জন্ম কোন গ্রামে।
Ans: কাঁথড়া।
21) মনসামঙ্গল কবি বিজয়গুপ্ত কোন শতাব্দীর লাোক।
Ans: পঞ্চদশ।
22) বিজয় গুপ্তের কাব্যের নাম কি।
Ans: পদ্মপুরাণ।
23)মঙ্গল কাব্য গুলির মধ্যে প্রাচীনতম কাব্য কোনটি।
Ans: মনসামঙ্গল।
BROAD SUGGESTION
প্রশ্ন :- বাংলার সমাজ ও সাহিত্যে, চর্যাপদের সাহিত্য মূল্য বা কাব্যমূল্য বিচার করুন।
অথবা
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম গ্রন্থের নাম কি?কেএই গ্রন্থটি কোথা থেকেআবিস্কার করেন ?এই গ্রন্থটির সাহিত্য মূল্য নিরুপন করুন।
উত্তর :-চর্ষার সাহিত্যমূল্য : ধর্মকে যখন আত্মবোধের প্রয়োজনে প্রয়োগ করা হয়। তখনই তা ভাবময় রহস্যময় কাব্যময় রূপ গ্রহণ করে।এরকম হয়েছে উপনিষদের ক্ষেত্রে চর্যাপদেও ব্যতিক্রম হয়নি। চর্যাপদ গোষ্ঠী, সাহিত গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। গোষ্ঠীর বাইরে এগুলি যাতে না যায়, সেজন্য এগুলি সন্ধ্যা ভাষায় সৃষ্ট এবং প্রধাণত বৌদ্ধ সহজিয়া ভিক্ষুদের ধর্ম, দর্শন, নীতি, উপদেশ, আচার, আচরণাদি প্রকাশ করতেই এগুলির উদ্ভব। আমরা আশ্চর্য হই চর্যাগীতি তার সেই ধর্মীয় গন্ডীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেও কাব্যরস পরিবেশনে এতটুকুও পিছিয়ে নেই। দার্শনিক কবিদের দর্শনতত্ত্বের জটাজাল অতিক্রম করতে পারলেই চর্যাগানের মধ্যেও যে আস্বাদন যোগ্য কাব্যরস আছে তা আমরা উপলব্ধি করতে পারি। তার প্রধান কারন চর্যাগীতির বাহ্যিক রূপকর্ম ও লৌকিক জীবনরস। চর্যাপদের সাহিত্য মূল্য বিচারের পূর্বেই বলা যায় এগুলি আকারে ক্ষুদ্র কবিতা। কিন্তু স্বয়ং সম্পূর্ন কবিতা। এগুলি বৈষ্ণব বা শাক্ত কবিতার মতো ক্ষুদ্র কবিতা হয়েও ক্রমরক্ষা করেনি বা কাহিনী নির্মান করেনি। এগুলি গাওয়া হতো এবং এতে ভনিতা ও রাগ-রাগিনীর উল্লেখ আছে – যেমন - পটমঞ্জুরী, দেবী, কামোদ, দেশাখ, ধনসী ইত্যাদি। পন্ডিতেরা চর্যার ছন্দের নাম বলেছেন ‘পাদাকুলক’ বাংলা ভাষায় রচিত পয়ার ত্রিপদীর প্রাচীনতম নিদর্শন আমরা চর্যায় পাই। দীর্ঘ পয়ার, লঘুপয়ার - দুরকমের নিদর্শনই চর্যায় আছে। চর্যার মোট ৩৭ টি কবিতার ৪ + ৪ + ৪ + ৪ = ১৬ মাত্রার চরন ওঅন্ত্যমিল আছে। এছাড়া ১০ টি পদে ৮ + ৮ + ১২ = ২৮ মাত্রার চরন ও অন্ত্যমিল। আছে। যেমন কা আ তরুবর পঞ্চবি ডাল ৪ + ৪ + 8 + ৪ = ১৬ চঞ্চল চী-ত্র পইঠো কাল ৪ + ৪ +৪+৪ = ১৬ চর্যাগীতিতে অলংকারের বিচিত্রতা আমাদের মুগ্ধ করে। কাব্য ভাষায় সর্বাপেক্ষা পরিচিত অলংকার রূপক ও উপমা। চর্যাগীতি কোষের সূত্রপাতই একটি রূপক কাব্য-কা আ তরুবর। একটি অন্যতম বিশিষ্ট রূপক হ’ল— “মনতরু পঞ্চ ইন্দি তসু সাহা।আসা বহল পাতা ফল বাহা”।। অর্থাৎ মন তরুস্বরূপ। পঞ্চ ইন্দ্রিয় তার শাখা। আশা বহুপত্র ও ফলবাহক। অত্যনুপ্রাস তো থাকতেই হবে তবে প্রতিটি কবিতাইশ্লেষ অলংকারের এক একটি অপরূপ নিদর্শন। যেমন- “সােনে ভরতি করুনা নারী। রূপা থোই নাহিক ঠাবী”। এর বাইরে একটি অর্থ সে হল আমার করুনানৌকা সোনায় পূর্ণ। তাতে রূপা রাখার জায়গা নেই। আর বৌদ্ধ সহজিয়া সাধন তত্ত্বে সোনা মানে শূন্যতা, রূপা মানেরূপচেতনা। আবার করুনা নারী’ রূপক অলংকার। এছাড়া উৎপ্রেক্ষা, অতিশয়োক্তি, বিরোধভাস, সবাসোক্তি, ব্যাজস্ততি প্রভৃতি অলংকারের প্রচুর নিদর্শন চর্যায় পাওয়া যায়। কিছু কিছু প্রবাদ, কাব্যের চমৎকারিত্ব সৃষ্টি করেছে এবং চর্যাগীতকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পৌঁছে দিয়েছে। যেমন— ১. আপনামাংসে হরিনা বৈরী’ ২. দুহিল দুধ কি বেল্টে সমাজ।তেমনি চর্যাপদে এমন কিছু ধাধার পরিচয় পাওয়া যায় যার গঠনকৌশল উল্লেখযোগ্য। যেমন ১. রুখের তেন্ডলি কুম্ভীর খা অ অর্থাৎ গাছের তেঁতুল কুমীরে খায় ২. বলদ বি আ এল গ বি আ বাঁঝে অথাৎ বলদ সন্তান প্রসব করল গাই বন্ধ্যা রইল।৩. জোসো চৌর সোই সাধী অথাৎ যেই চোর সেই সাধু ইত্যাদি। বৃহত্তর বঙ্গের পটভূমিকায় খ্রিস্টীয় দশম-দ্বাদশ শতাব্দীর বাঙালীর সমাজ, গৃহজীবন ও রিবারিক জীবনের খাটি ও বাস্তব চিত্রে পরিপূর্ণ। সেকালের অন্ত্যজ শ্রেনীর জীবন ও জীবিকা, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান আমোদ-প্রমোদ, প্রেম ভালোবাসা ইত্যাদির সুন্দর চিত্র চর্যায়ফুটে উঠেছে। চর্যার মানুষরা হল সেকালের দরিদ্র অবহেলিত ব্যাধি, শবর, ডোম প্রভৃতি জাতি। এরা নগরের পাশেই কুঁড়ে বেঁধে বাস করে। হাঁড়িতে ভাত না থাকলেও নিত্য অতিথি এসেই থাকে-হাঁড়ীতে ভাতনাই নিতি আবেসী'। নিত্য অভাবিত সংসার ব্যাঙের ছাতার মতো বেড়েই চলে। চর্যার শ্রমজীবি মানুষরা তাঁত বোনে, মাছ ধরে, নৌকা তৈরী করে, নৌকাবায়। আবার শবর ব্যাধি শিকার করে। এদের মধ্যে আবার কেউ কেউ মদ চোলাইকরে। অন্যদিকে স্বামী-শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ননদ পরিবৃত্ত সংসারের মাঝে থেকে থেকে বন্ধুর মন অবৈধ প্রেমের আবেগে ভেসে যায়। বঞ্চিত নারীর মনোবেদনা যেমন প্রকশিত হয়ে ওঠে তেমনি কামবেদনায় অস্থির নারী রাত্রির গোপন অভিসারে বের হয়। নতুন বধুটি যার কানের অলংকারটি রাত্রিতে চোরে নিয়ে গেছে – সেই বধূর বিষন্ন মুখটি, একতারা বাজিয়ে আনন্দে যোগীর নেচে চলে যাওয়া, মাদল বাজিয়ে বরের বিয়ে করতে যাওয়া, মেয়েলী আচার, বাসরঘর, রমনীপরিবৃত্ত একটি অচেনা রহস্য - তার ছবিটি অতি নিখুঁতভাবে সামান্য দু'চার কথায় ফুটে উঠেছে। শিকারীর হাত থেকে একটু মুক্তির অবকাশে হরিনীর দিগন্তে নিরুদ্দেশ হওয়া। শান্ত পাহাড়, পুষ্পিত গাছ, স্রোতময়ী নদী, বিহ্বল জোৎস্না, দীপ্ত মন্দির, তিন ধাতুর খাটে পান মুখে, বক্ষলগ্নাবধুর সাহচর্যে মিলন, বিধুর প্রেমিক, গরু দোয়ানো প্রভৃতি বাস্তব চিত্রের প্রথম উদ্বোধন হয়েছে চর্যাপদে। নর নারীর তীব্র আসক্তিপূর্ণ জীবনলীলা চমৎকার প্রকাশিত হয়েছে ২৮ নং পদে। গুঞ্জার মালা পরে, ময়ূরপুচ্ছ ধারন করে পর্বতের মাথায় দাঁড়িয়ে আছে শবর কন্যা। তাকে পরস্ত্রী ভেবে শবর উন্মত্ত, এপদের নিহিতার্থ যাই হোক এর মধ্যে দেহজ প্রেমের চিত্রন প্রকাশিত। আবার রূপমুগ্ধ কামান্ধ ব্রাহ্মন সমস্ত আভিজাত্য ত্যাগ করে ডোমনীর জন্য কাপালি যোগির নগ্ন বেশ ধারন করেন। নটসজ্জাত্যাগ করে হাড়ের মালা পরে অবৈধ প্রেমের দুর্বার আসক্তি সম্পন্ন কাপালির পরিচয় পাই ১০নং পদে। অন্যদিকে দেহাসক্তিপূর্ণ প্রেমের উল্লাসে আকর্ষনীয় ১১ নং পদ শুধু এই বাস্তব প্রেমিকতাই নয় চর্যার সহজিয়া সাধকেরা পাঠককে ভাবের জগতেও নিয়ে যায়। যে ধ্যানের আকার নেই, বর্ণনা নেই তাকে পাঠকের মনে ধরিয়ে দেবার জন্যে সেই উপকরণ গুলি দরকার যাকে ইন্দ্রিয় দিয়ে বোঝা যায়, চেনাযায়। তাই যখন বলা হয় চিত্ত এবং চিত্তজ মোহের কথা, উপাদান হিসাবে ব্যবহৃত হয় গাছ এবং তার ডাল এবং ফল। চিত্তজমোহ, বাসনা কামনাকে বাঁচিয়ে রেখে মানুষ পরম সুখ লাভ করতে পারে না। এই সব বাইরের জিনিস দিয়ে অন্তর তমের সন্ধান পাওয়া যায় না। বাইরের আড়ম্বরটাই যে জীবনের বড় নয়, বাইরের রাস্তাটি ভিতরে যাওয়ার প্রবেশ পথ মাত্র, এই তত্ত্বটি সুগভীর কাব্যময় বোধের দ্বারা চর্যাপদে প্রকাশিত। নিরাত্মা, নিরাবয়ব পরমপ্রিয়ইসিদ্ধাচার্যদের চরম কামনা। একে পাবার জন্য তাদের যে ব্যাকুলতা তা অনেক সময়ে। কৃষ্ণের বা শ্রীরাধার ব্যাকুলতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আধুনিক কালের পরিণত বাংলা ভাষায় যে সমস্ত কাব্য রচিত হয়েছে তাতে রসসৃষ্টির যে আশ্চর্য কৌশিল তা চায় না পেলেও শব্দ ব্যবহারের সুকৌশল, ধ্বনি মাধুর্য সৃষ্টি, শৃঙ্গার, করুন অদ্ভূত ও শান্তরসের মধ্য দিয়ে অন্ত্যজ শ্রেনীর সামাজিক জীবন সর্বোপরি সিদ্ধাচার্যদের বিরহবেদনা আশা আকাঙ্খা ও নাপাওয়ার যন্ত্রনাকে ফুটিয়ে তুলে যে রসসৃষ্টি হয়েছে তা সশ্রদ্ধ স্বীকৃতির দাবী রাখে। সবশেষে এ আলোচনায় চর্যার ভাব, ভাষা, ছন্দ অলংকার ইত্যাদি বিচারে বলা যায় চর্যপদ ত্রুটিমুক্ত না হলেও এটি একটি সুষ্ঠ ও সুন্দর কাব্য। তার কারন চর্যাপদে আছে সুগভীর মানবতাবোধের নির্মল অনুভূতি ও প্রেম ভক্তির সমন্বয় এখানেই চর্যাপদের সাহিত্যিক মূল্য।
প্রশ্ন ;-শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের আবিষ্কার, রচনাকাল, বিষয়বস্তু আলোচনা করুন। কাব্যের নায়ক প্রচলিত কৃষ্ণকথার পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও রচনাটির সাহিত্যিক মূল্য অপরিসীম’—মন্তব্যটির সারবত্তা বিচার করুন।
উত্তর:- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের আবিষ্কার—বাংলা সাহিত্যের আদি মধ্যযুগের একমাত্র সাহিত্য নিদর্শন বড়ু চন্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’কাব্য। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বসন্তরঞ্জনরায় বিদ্ববল্লভ একসময় প্রাচীন পুঁথির সন্ধান করে ফিরছিলেন। ১৩১৬ বাংলা সালে বাঁকুড়া বিষ্ণুপুরের কাকিল্যা গ্রামে এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে তিনি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন-এর পুথি আবিষ্কার করেন। পুথির আদি এবং অন্ত খন্ডিত, মাঝেরও কিছু কিছু অংশ পাওয়া যায়নি। তাই কাব্যের নাম, রচনাকাল এবং বিস্তারিত কবি পরিচয়, কিছুই জানা যায় না। রাধা কৃষ্ণের প্রণয়লীলা কাব্যের উপজীব্য এবং গোটা কাব্যটি পদকীর্তনের আকারে লেখা, প্রত্যেকটি পদের ওপরে গেয় সুরের উল্লেখ রয়েছে। এইসব দেখে সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় কাব্যের নাম রাখেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’। ১৩২৩ বাংলা সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়। পুথির ভেতরে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামাঙ্কিত একটি চিরকূট তিনি পান। কাব্যমধ্যস্থিত ভণিতা অংশটি লক্ষ করে কবিকে বাসুলী দেবীর পূজক
বলে মনে হয়। ভণিতায় কবি নিজেকে চন্ডীদাস বা অনন্ত বড়ুচন্ডীদাস বলে পরিচয় দিয়েছেন। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ চৈতন্যদেবের আবির্ভাবের আগে রচিত হয়েছিল, অতএব বড়ুচন্ডীদাসকেই চৈতন্যদেব আস্বাদন করেছিলেন— এরূপ সিদ্ধান্ত করা অসম্ভব নয়। কিন্তু বৈষ্ণব রসদৃস্টির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রবল আপত্তি করা হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ রাধাকৃষ্ণের লৌকিক প্রেম গাথা। এখানে দেহের আকুতিই প্রাধান্য পেয়েছে। শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের এগারোটি খন্ডেশ্রীকৃষ্ণের জন্ম বৃত্তান্ত থেকে কৃষ্ণের মথুরাগমনের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। জন্মখন্ডে কৃষ্ণের জন্মের পৌরাণিক কাহিনী ব্যক্ত হয়েছে। পাপপীড়িত পৃথিবীর উদ্ভারের জন্য স্বয়ং নারায়ণ কৃষ্ণরূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তাছাড়া রাধাকেও পৌরাণিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। কবি বলেছেন, বৈকুণ্ঠের লক্ষ্মীই কৃষ্ণ সুখের জন্য রাধারূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। এই সূত্রধরে তিনি পরবর্তী বিভিন্ন খন্ডে রাধাকৃষ্ণের অবৈধ মিলনচিত্রকে নীতি অনুমোদিত করার চেষ্টা করেছেন। তা নাহলে জন্মখন্ড এবং যমুনা খন্ডেব কালীয় দমন অংশ ছাড়া শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'-এ পুরাণ কথার কোনো অস্তিত্ব নেই। বাকি অংশে লৌকিক প্রণয় কাহিনীর মাধ্যমে দেহ বুভুক্ষা, বলাৎকার এবং অবৈধ আসঙ্গ চিত্রই বারংবার বর্ণিত হয়েছে দানখন্ড, নৌকাখন্দ ইত্যাদি বিভিন্ন অংশে। এই সব রচনা চিত্রনের প্রতি লক্ষ করেই কেউ কেউ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কে সহজিয়া কবিতা বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু বংশী’ ও ‘বিরহ’—এই শেষ দুটি খন্ড, এ বিষয়ে ব্যতিক্রম। বিরহতা রাধার প্রণয় বেদনা। দেহসীমাকে অতিক্রম করে বৃন্দাবরের আকাশে বাতাসে যেন ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্বল ভাষা এবং লৌকিক কল্পনার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রেম ব্যথিত হৃদয়ের স্পন্দনটি করুণাঘন গভীর সুরে ধ্বনিত হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন হয়ে উঠেছে বৈষ্ণব সাহিত্যের অনন্য সম্পদ। কাব্যের নায়ক শ্রীকৃষ্ণ চরিত্র অত্যন্ত শ্লথ দুর্বল চরিত্র বলে মনে হয়। চরিত্রটি অত্যন্ত গ্রাম্য অমার্জিত ভোগলোলুপ এবং স্বার্থপর রূপে চিত্রিত হয়েছে। কৃষ্ণ নিজের মুখে নিজের ঐশী শক্তি সম্পর্কে বার বার দম্ব প্রকাশ করেছে বটে,— একবারও বিস্মৃত হয়নি যে সে বৈকুণ্ঠের বিষ্ণু, শুধু অত্যাচারী কংসনিধনের জন্যই মর্তে তার মানবরূপ পরিগ্রহণ, কিন্তু সমগ্রকাব্যে তার আচারণ, বাদানুবাদ, ছলচাতুরি ও নিম্নরূচি নিম্নশ্রেণীর রাখোয়াল’সুলভ দেব মহিমা কিঞ্চিত্মাত্রও লক্ষ করা যায় না। মানবত্বও সেখানে দুর্লভ। অধ্যাত্মিকতার লেশমাত্র সে চরিত্রে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তা সত্ত্বেও শ্রীকৃষ্ণ যেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেরসাহিত্যে অত্যন্ত মুল্যবান চরিত্র।
বিভিন্ন পুরাণের যেমন বিষ্ণুপুরাণ ভাগবতপুরাণ, ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ, পদ্মপুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দ আর লোককথা বা লোকায়েত কৃষ্ণকাহিনী অবলম্বন করে বডুচন্ডীদাস শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটি রচনা করেছিলেন। কিছু পরিমানে গ্রাম্যতা বা অল্পস্বল্প স্থূলতা এ-কাব্যে দৃষ্ট হলেও কবি বড়ু চন্ডীদাস যে পুরাণঞ্চ, পন্ডিত এবং সংগীতশাস্ত্রে ব্যুৎপন্ন ছিলেন, শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে তার বহু দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে। বডুচন্ডীদাস কৃষ্ণের জন্ম, রাসলীলা, বস্ত্রহরণ এসব ক্ষেত্রে বিষ্ণুপুরাণ, ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ ও ভাগবতাদিপুরান অনুসরণ করেছেন। কিন্তু কাব্যকাহিনীর বৃহদাংশে তিনি সমকালে প্রচলিত লোককথাকেই ভিত্তি করেছেন। পৌরানিক রাধাকৃষ্ণলীলার কাহিনী মহিমার পাশাপাশি সমাজ বিগর্হিত অবৈধ পরকীয়া প্রেমের একটি আবিল কাহিনীধারা যে সেকালের বাংলার লোকসমাজে প্রচলিত ছিল তা সমস্ত পন্ডিত গবেষক এবং সাহিত্যর ঐতিহাসিকেরা স্বীকার করেন। বড়ু চন্ডীদাস সেই লোককাহিনীকে কাব্যে প্রধানভাবে ব্যবহার করেছেন। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন অব্যবহিতপূর্ব জয়দেবের প্রসিদ্ধ কাব্য গীতগোবিন্দেরও প্রভাব দেখা। যায় এ কাব্যে। প্রাচীন গ্রামীন নাট্যগীতির আঙ্গিকটিও গীতগোবিন্দের মতো শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে লক্ষ করা যায়। ডঃ সুকুমার সেন এটিকে ‘নাটগীতি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। গীতগোবিন্দের মতাো একাব্যেও সংস্কৃত শ্লোকের সাহায্যে কাব্য কাহিনীর যােগসূত্র রক্ষা করা হয়েছে। আসলে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন প্রাচীন যাত্রারীতির পালাগানেরই রকমফের। আরএই পালাগানের রুচির মানদন্ডে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্থানে স্থানে অশ্লীলতা ও গ্রাম্যতা দোষে দুষ্ট। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আদিরসের কাব্য। সূতরাং শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে যে সমাজ বিগর্হিত পরকীয়া স্থূল সম্ভোগের চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে তা মূলত যুগরুচি ও যুগপরিবেশেরই প্রতিফলন। সর্বোপরি মধ্যযুগের দেববাদ নির্ভর সাহিত্যিক পরিমন্ডলে বড়ুচন্ডীদাস মানুষের কথা শুনিয়েছেন। সংস্কৃতজ্ঞ পন্ডিত ও জীবনরসিক কবি হিসেবে পুরাণ প্রসঙ্গের অবতরনায় এই কাব্যের বহিরঙ্গ নির্মাণ করেছেন তিনি। আর সমগ্র কাব্যে রাধা কৃষ্ণের ছদ্মবেশে মানব মানবীর প্রেম কাহিনি পরিবেশন করেছেন। সে প্রেম আদিম, অসংস্কৃত হলেও মনে রাখতে হবে এখানে আছে মাটির গন্ধ আর আছে সৃষ্টির ইন্দ্রজাল। এই সৃষ্টির ইন্দ্রজালেই আছে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের সাহিত্যিক মূল্য।
!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
ebg -1 ,
nsou assignment,
ebg - 1 short notes,
netaji subhas open university,
nsou bdp assingment 2021,
nsou exam 2021,
nsou reduced syllabus,
assingment,
excellence academy,
bdp 1st year,
notes,
bdp 1 st year,
!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
Thanks you for contacting EXCELLENCE ACADEMY
Please let us know how we can help you
Subscribe my You Tube channel :-
https://youtube.com/channel/UCeqI19916_20Ic39jK0wi1A
join my facebook group :-
https://www.facebook.com/groups/485319229356130/?ref=share
!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
No comments:
Post a Comment
how can we help you